মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান২৪>> সর্বশেষ দুই আসরেও মাঠে গড়িয়েছে নারী ফুটবল লিগ। তখন কোনো ক্লাবই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে কাউন্সিলরশিপ চায়নি। কিন্তু ২০২৪ সালের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় বাফুফে নির্বাচনের আগে কাউন্সিলরশিপ হওয়ার দাবি জানিয়েছে নারী লিগে খেলা ৯ দলের মধ্যে আটটি। বাংলাদেশ আর্মিই শুধু কাউন্সিলর হতে আগ্রহ দেখায়নি।
কারণ নারী লিগের এই ক্লাবগুলোর সবাই বাফুফে কার্যনির্বাহী কমিটির আশীর্বাদপুষ্ট। তাদের কাউন্সিলরশিপ দিলে ভোটের অঙ্কটাও নিশ্চিত হওয়া যাবে। গতকাল ফেডারেশনে নারী ফুটবল লিগ কমিটির জরুরি মিটিংয়ে ক্লাবগুলোকে কাউন্সিলরশিপ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন বাফুফে বোর্ডে এটা নিয়ে আলোচনা হবে। তার পর বার্ষিক সাধারণ সভায় পাস হলেই কাউন্সিলরশিপ পাবে ক্লাবগুলো।
এ ছাড়া নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি, আতাউর রহমান ভূঁইয়া কলেজ স্পোর্টিং ক্লাব, সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাব, জামালপুর কাচারিপাড়া একাদশ, সিরাজ স্মৃতি সংসদ, উত্তরা ফুটবল ক্লাব, ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাব এবং ফরাশগঞ্জ ক্লাব বাফুফে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ চেয়েছে। যতটা ক্লাবগুলোর আগ্রহ, তার চেয়ে বেশি তোড়জোড় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির।
প্রিমিয়ার লিগ এবং মহানগরী ফুটবল লিগের ক্লাবগুলোর সঙ্গে বাফুফে নির্বাচনে ভোট দিতে পারে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলররা। বাফুফের কাউন্সিলর ১৪৭; তবে ভোট দিতে পারেন ১৩৯ জন। ফুটবল ফেডারেশনের এত ভোটার নিয়ে ২০২১ সালে প্রশ্ন তুলেছিল ফিফা। তিন বছরের মাথায় সেটা তো কমেনি, বরং নারী লিগের ক্লাবগুলোকে কাউন্সিলরশিপ দিয়ে ভোটার সংখ্যা আরও বাড়াচ্ছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নির্বাচনের আগে কাউন্সিলরশিপ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বাফুফে নারী ফুটবল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণের ব্যাখ্যা ভিন্ন, ‘ক্লাবগুলোর কাউন্সিলরশিপ পাওয়াটা অবশ্যই জরুরি। আপনার একটা ক্লাবের সম্মান কাউন্সিলর। নারী লিগে যারা অংশগ্রহণ করে, তারা অর্থনৈতিকভাবে অতটা ভালো অবস্থায় না। তারা ওই জায়গা থেকে মেয়েদের লিগে এগিয়ে আসে। আমরা যদি তাদের সাপোর্ট না দিই, তাহলে কেন খেলবে। আমি মনে করি, তাদের দাবি যৌক্তিক।’
এটা নিয়ে যে তাড়াহুড়া করছেন ফেডারেশনের কর্তারা, তাতে কাউন্সিলরশিপ পাওয়াটা শুধু সময়ের ব্যাপার নারী লিগে খেলা ক্লাবগুলোর। কাউন্সিলরশিপের বাইরে বাংলাদেশ নারী দলের সঙ্গে চায়নিজ তাইপের ম্যাচ নিয়ে আলোচনা হয়েছে মিটিংয়ে। ৩১ মে এবং ৩ জুন বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় চায়নিজ তাইপের সঙ্গে দুটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলবেন সাবিনারা।
ক্লাবগুলোকে কাউন্সিলরশিপ দিলে মেয়েদের লিগের মানও বাড়বে বলে মনে করেন কিরণ, ‘আমরা যদি তাদের কাউন্সিলরশিপ দিই, তাহলে বড় বড় ক্লাবও এগিয়ে আসবে। বড় ক্লাবগুলো যখন এগিয়ে আসবে স্বাভাবিকভাবে খেলার মান বেড়ে যাবে। কালকে (সোমবার) আপনারা যে ম্যাচটি (নাসরিন-জামালপুর) দেখেছেন; এই লিগের সবচেয়ে ভালো টিম আর সবচেয়ে দুর্বল টিমের সঙ্গে খেলা ছিল। তো এই ব্যবধানটা (১৯-০) হবেই। গত বছর আপনারা দেখেছেন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে বসুন্ধরা ২০ গোল দিয়েছে। এই ব্যবধানটা কিন্তু থাকবে। আমরা যদি কংগ্রেসে এটা পাস করতে পারি, তাহলে তারা আরও ভালো টিম করবে।’